কখনো কখনো একটুখানি বাড়তি যত্নই, সবচেয়ে বেশি পার্থক্য গড়ে দেয়...
আপনার আদরের সন্তানের জন্য সার্জিক্যাল সেবা
সচরাচর করা হয় এমন কিছু সার্জারির তালিকা। মনে রাখবেন, এর বাইরেও আরও অনেক সার্জারি রয়েছে…
জেনারেল শিশু সার্জারি
এর আওতায় রয়েছে শিশুদের সাধারণ সার্জিক্যাল সমস্যাগুলো, যেগুলো মূলত অন্ত্র (নাড়িভুঁড়ি), হাত-পা এবং শরীরের অন্যান্য অংশের সাথে সম্পৃক্ত
সুন্নতে খাৎনা
পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের অতিরিক্ত ত্বক বা প্রিপিউস অপসারণ করার একটি সার্জিক্যাল প্রক্রিয়া।
ইনগুইনাল হার্নিয়া
এটি সাধারণত রুটিন সার্জারি, তবে আটকে গেলে বা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে রূপ নিতে পারে
হাইড্রোসিল
শিশুর ২ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে। এর মধ্যে সমস্যাটি নিজে থেকে ঠিক না হলে, সার্জারি করানো প্রয়োজন
অণ্ডকোষ থলিতে না নামা
শিশুর বয়স ১ বছর হওয়ার আগেই সার্জারি করা উচিত, দেরি হলে অঙ্গটির কার্যকারিতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে
পায়খানার রাস্তায় পলিপ
মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত। চিকিৎসা না করালে শিশুর রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে
এপেন্ডিসাইটিস
এটি একটি জরুরি অবস্থা। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসায় এটি সেরে যেতে পারে, তবে তা না হলে অ্যাপেন্ডেক্টমি করা প্রয়োজন।
ইন্টাসাসসেপশন
এটি একটি সার্জিক্যাল ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা)। স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব অপারেশন করা প্রয়োজন
হার্সপ্রাং ডিজিস
জন্মগত ত্রুটির কারণে তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। এটি নিরাময়ে একাধিক ধাপে সার্জারির প্রয়োজন হয়
ম্যালরোটেশন
মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠার সময় শিশুর অন্ত্র বা নাড়িভুঁড়ি সঠিকভাবে না ঘোরার ত্রুটি। এটি সার্জারির মাধ্যমে সংশোধন করা প্রয়োজন
এন্টেরোকোলিইটিস
জরুরি পরিস্থিতি। অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে, তবে দুর্ভাগ্যবশত শিশুর পুরোপুরি সেরে ওঠার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ
নবজাতক সার্জারি
এর আওতায় রয়েছে জন্মের পর জীবনের প্রথম ২৮ দিনের মধ্যে হওয়া সার্জিক্যাল সমস্যাগুলো, যা মূলত জন্মগত ত্রুটিজনিত
জন্মগত পায়খানার রাস্তার ত্রুটি
জন্মগতভাবে স্বাভাবিক স্থানে মলদ্বার না থাকার ত্রুটি। এর জন্য জরুরিভিত্তিতে সার্জারি প্রয়োজন
হার্সপ্রাং ডিজিস
জন্মগত ত্রুটির কারণে তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। এটি নিরাময়ে একাধিক ধাপে সার্জারির প্রয়োজন হয়
ওম্ফ্যালোসিল
শিশুর নাভি দিয়ে নাড়িভুঁড়ি (অন্ত্র) বেরিয়ে আসা, যা একটি পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকে। এটি একটি ইমার্জেন্সি বা অত্যন্ত জরুরি অবস্থা
গ্যাস্ট্রোসকাইসিস
কোনো আবরণ বা পর্দা ছাড়াই শিশুর নাভি দিয়ে নাড়িভুঁড়ি (অন্ত্র) বেরিয়ে আসা। এক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে সার্জারি প্রয়োজন
মেকোনিয়াম আইলিয়াস
শিশুর প্রথম পায়খানা আলকাতরার মতো অত্যন্ত ঘন ও আঠালো হওয়ার কারণে নাড়িভুঁড়িতে বাধা সৃষ্টি হয়।
ইন্টেস্টিনাল এট্রেশিয়া
জন্মগত কারণে শিশুর নাড়িভুঁড়ি (অন্ত্র) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা বাধাগ্রস্ত হওয়া। এক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে সার্জারি প্রয়োজন
ডিওডেনাল এট্রেশিয়া
জন্মগত কারণে শিশুর নাড়িভুঁড়ি (অন্ত্র) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা বাধাগ্রস্ত হওয়া। এক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে সার্জারি প্রয়োজন
পাইলোরিক স্টেনোসিস
পাকস্থলীর নিচের দিকের পথ (পাইলোরাস) সরু হয়ে যাওয়ার কারণে শিশুর তীব্র বমি হয়। এটি নিরাময়ে সার্জারির প্রয়োজন
ইন্টেস্টিনাল অবস্ট্রাকশন
জন্মগত ব্যান্ড এবং অ্যাডহেশন (নাড়িভুঁড়ি একে অপরের সাথে আটকে যাওয়া)-এর মতো বিভিন্ন কারণে হতে পারে।
এন্টেরোকোলাইটিস
জরুরি পরিস্থিতি। অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে, তবে দুর্ভাগ্যবশত এক্ষেত্রে শিশুর পুরোপুরি সেরে ওঠার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ
লিভার, পিত্তথলি ও পিত্তনালীর সার্জারি
এর আওতায় রয়েছে লিভার, পিত্তনালী, প্যানক্রিয়াস (অগ্ন্যাশয়) এবং স্প্লিনের (প্লীহা) সাথে জড়িত শিশুদের সাধারণ সার্জিক্যাল সমস্যাগুলো। এর মধ্যে কিছু সমস্যা জন্মগত, আবার কিছু পরবর্তীতে সৃষ্টি হয়
পিত্তথলির পাথর
এটি শিশুদের ক্ষেত্রে বেশ বিরল। যদি এই সমস্যা দেখা দেয়, তবে রক্তের কোনো রোগ আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। এর জন্য অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়
কোলেডোকাল সিস্ট
এটি পিত্তনালি প্রসারিত হয়ে বা ফুলে যাওয়ার সমস্যা। রোগ নির্ণয়ের জন্য এমআরসিপি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এর চিকিৎসায় সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়
স্প্লিনোমেগালি
মূলত রক্তের বিভিন্ন রোগের কারণে স্প্লিন বা প্লীহা বড় হয়ে যায়। একটা পর্যায়ে গিয়ে এর জন্য সার্জারির প্রয়োজন হয়
বিলিয়ারি এট্রেশিয়া
জন্মগতভাবে পিত্তনালি বন্ধ থাকা বা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমস্যা। এক্ষেত্রে শিশুর দীর্ঘস্থায়ী জন্ডিস দেখা দেয়। এর চিকিৎসায় একাধিকবার সার্জারির প্রয়োজন হয়
প্যানক্রিয়াটিক সিউডোসিস্ট
এটি প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগের একটি জটিলতা। ওষুধ ও সাধারণ চিকিৎসা-এর মাধ্যমেই এটি সেরে যেতে পারে, তবে অবস্থার উন্নতি না হলে সার্জারি প্রয়োজন হয়
পোর্টাল হাইপারটেনশন
এটি পোর্টাল সিস্টেমে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা। এর ফলে রোগীর রক্ত বমি হতে পারে। এর চিকিৎসায় অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে
মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি
ল্যাপারোস্কোপি, এন্ডোস্কোপি এবং সিস্টোস্কোপির মতো আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এসব সার্জারি সম্পন্ন করা হয়, যা শিশুর ন্যূনতম ব্যথা ও দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে
ল্যাপ কোলেসিস্টেকটমি
এটি শিশুদের পিত্তথলিতে পাথর বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে পিত্তথলিটি পেটে ছোট ছিদ্র করে সার্জারির মাধ্যমে অপসারণ করার পদ্ধতি
ল্যাপ এপেন্ডেকটমি
এটি শিশুদের অ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহ বা ব্যথা সারাতে পেটে ছোট ছিদ্র করে করা এক ধরনের আধুনিক অপারেশন
ল্যাপ পাইলোরোমায়োটোমি
এটি শিশুদের পাকস্থলীর পাইলোরাস নামক নালির শক্ত হয়ে যাওয়া পেশিগুলো কেটে খুলে দেওয়ার একটি আধুনিক অপারেশন
সিস্টোসকপি
শিশুর মূত্রথলি ও প্রস্রাবের রাস্তায় কোনো সমস্যা আছে কি না, তা দেখার জন্য একটি বিশেষ ছোট ক্যামেরার সাহায্যে পরীক্ষা করা
সিস্টসকপিক ফালগারেশন
শিশুর প্রস্রাবের রাস্তায় পর্দা থাকলে, সেটি দূর করার জন্য একটি বিশেষ ছোট ক্যামেরার সাহায্যে পরীক্ষা করা এবং তাপের সাহায্যে নিরাপদে সরিয়ে ফেলা
ল্যাপ পাইলোপ্লাস্টি
এটি শিশুদের কিডনির নালিতে থাকা সরু অংশ বা বাধা ঠিক করার জন্য পেটে ছোট ছিদ্র করে করা এক ধরনের আধুনিক অপারেশন
শিশু ইউরোলজি
এতে কিডনি, ইউরেটার, মূত্রথলি (ইউরিনারি ব্লাডার) এবং মূত্রনালীর (ইউরেথ্রা) সাথে জড়িত সাধারণ ইউরোলজিক্যাল সমস্যাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে জন্মগত ও পরবর্তীতে হওয়া—উভয় ধরনের সমস্যাই রয়েছে।
হাইপোসপেডিয়াস
জন্মগত একটি সমস্যা যেখানে শিশুর পুরুষাঙ্গের প্রস্রাবের ছিদ্রটি মাথার ঠিক অগ্রভাগে না হয়ে নিচের দিকে থাকে
এপিসপেডিয়াস
জন্মগত সমস্যা যেখানে শিশুর পুরুষাঙ্গের প্রস্রাবের ছিদ্রটি মাথার ঠিক অগ্রভাগে না হয়ে উপরের দিকে থাকে
পিইউজে অবস্ট্রাকশন
এটি কিডনির সাথে প্রস্রাবের নালির সংযোগস্থলে থাকা এক ধরনের বাধা, যা প্রস্রাব নির্গমনে ধীরগতি সৃষ্টি করে
ভিইউজে অবস্ট্রাকশন
এটি প্রস্রাবের নালি এবং মূত্রথলির সংযোগস্থলে থাকা এক ধরনের বাধা, যার ফলে কিডনি থেকে প্রস্রাব সঠিকভাবে বের হতে পারে না
ভেসিকো-ইউরেটারিক রিফ্লাক্স
এমন একটি সমস্যা যেখানে প্রস্রাব শরীর থেকে বের হওয়ার বদলে মূত্রথলি থেকে উল্টো দিকে কিডনির দিকে চলে যায়
প্রস্রাবের রাস্তায় পর্দা
একটি জন্মগত সমস্যা, যেখানে প্রস্রাবের রাস্তায় থাকা বাড়তি টিস্যুর কারণে মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব বের হতে বাধা পায়
ফাইমোসিস/প্যারাফাইমোসিস
এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে শিশুর পুরুষাঙ্গের সামনের চামড়াটি খুব টাইট বা শক্ত হওয়ার কারণে পেছনের দিকে সরানো যায় না
হাইড্রোনেফ্রোসিস
এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে প্রস্রাব ঠিকমতো বের হতে না পারায় কিডনি ফুলে বড় হয়ে যায়।
ইউরেটেরোসিল
এটি একটি সমস্যা যেখানে কিডনি থেকে প্রস্রাব নিয়ে আসা নালির শেষ প্রান্তটি মূত্রথলির ভেতরে একটি ছোট বেলুনের মতো ফুলে যায়
ডুপ্লেক্স কিডনি
এটি একটি জন্মগত অবস্থা যেখানে একটি কিডনির সাথে দুটি প্রস্রাবের নালি থাকে, অর্থাৎ কিডনিটি দুটি অংশে বিভক্ত থাকে
অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে প্রস্তুত, নাকি মনে এখনও কোনো প্রশ্ন আছে?